Bengoli English Arabic

জামিয়া প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস

জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ একটি খালেছ দ্বীনি কওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কওমী মাদরাসা অর্থ হচ্ছে জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মুসলিম জনগণের ঈমান-আকীদা, আমল-আখলাক, তাহযীব-তামাদ্দুন হিফাযতের লক্ষ্যে আকাবিরে দেওবন্দ বিপ্লবী শিক্ষা কেন্দ্র দারুল উলূম দেওবন্দের সূচনা করেন। হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত মাওলানা কাসেম নানুতবী রহ. মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতের উত্তর প্রদেশের মফস্বল শহর দেওবন্দে এ দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের সূচনা করেন। দারুল উলূম দেওবন্দ বিশেষ কোন সিলিবাসের অধীনে প্রচলিত অর্থে শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানরূপে আত্মপ্রকাশ করেনি, বরং অন্ধকারে নিমজ্জিত জাতিকে আলোকোজ্জল রাজপথে চলার সন্ধান দিয়েছে। শিরিক-বিদআত ও অজ্ঞতা-মুর্খতার সাগরে পতিত জাতিকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আলোকিত রাজপথে টেনে নিয়ে এসেছে।

কওমী মাদরাসা উপমহাদেশের ৩টি দেশ বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে-ই সীমাবদ্ধ নেই। আজকে উপমহাদেশের বাইরে আফগানিস্তান, ইরান, মধ্য এশিয়া, সউদী আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, বার্মা, ফিলিপাইন, মালোয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান এবং ইউরোপের ইংল্যান্ড ও অন্যান্য দেশে, আমেরিকা ও কানাডায় নব প্রতিষ্ঠিত সহস্রাধিক মাদরাসা ও কওমী মাদরাসা তথা দেওবন্দী মাদরাসা নামে অবিহিত। বিশ্বময় ইসলামের এই জাগরণে আজ সাম্রাজ্যবাদী ইহুদী-খ্রিস্টান জগত সঙ্কিত। মুসলিম জাগরণের উৎসমূল কুরআন-হাদীসের এ শিক্ষা কেন্দ্রগুলোকে বন্ধ করতে পারলেই ইসলামের উত্থানের পথ রুদ্ধ করা সম্ভব হবে। তাই প্রতিনিয়তই সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো কওমী মাদরাসার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছে।

ইসলাম ও মুসলিম জাতি সত্তার হেফাযতের জন্য কওমী মাদরাসা শিক্ষা অপরিহার্য। এর সিলেবাস ইসলামী শিক্ষা ব্যাবস্থার একটি সর্বজণীন ও ইলমে শরীয়তের প্রতিটি শাখায় পরিব্যাপ্ত ও পরিপূর্ণ সিলেবাস। মুসলমানের জন্য এ শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। এরি ধারাবাহিকতায় মুজাহিদে মিল্লাত মাওলানা শামছুদ্দীন কাসেমী রহ.-সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কিরামের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং অত্র এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বীদের আন্তরিক সহায়তায় ১৯৭০ সালে হাফেয কারী আবদুল খালিক সাহেবের ভিত্তি রাখার মাধ্যমে অত্র জামিয়ার যাত্রা শুরু হয়। বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সিপাহসালার শায়খুল আরব ওয়াল আযম, শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা সাইয়িদ হোসাইন আহমদ মাদানী রহ.-এর নামানূসারে এ প্রতিষ্ঠানটির নাম রাখা হয় জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অগ্নিকাণ্ডের ফলে জামিয়ার বিপুল ক্ষতি সাধিত হওয়ায় সাময়িকভাবে এর অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭৪ সালে আল্লাহর ওপর ভরসা করে বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়ে জামিয়া নতুন উদ্যমে পুনরায় তার যাত্রাপথে অগ্রসর হয়। ৭৪ সালের শেষ দিকে জামিয়ার সদরুল মুদাররীস হিসেবে হযরত কাসেমী রহ. যোগদান করেন। ১৯৭৬ সালে জামিয়ার মুহতামিমের দায়িত্ব তাঁকে অর্পন করা হয়। মৃত্যু অবধি তিনি এ পদে সমাসিন ছিলেন। ১৯৯৬ সালে তাঁর ইন্তিকালের পর জামিয়ার মুহতামিমের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন হযরত মাওলানা মোস্তফা আজাদ সাহেব। তার দক্ষ পরিচালনায় এবং জামিয়ার শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় জামিয়া আজ দিন দিন উন্নতির পথে আরো দ্রুত গতিতে অগ্রসরমান।