Bengoli English Arabic

জামিয়ার পরিচালনা পরিষদ
সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার উদ্দেশে জামিয়ার তিনটি মজলিস (পরিষদ) থাকবে।
(১) মজলিসে শুরা (উপদেষ্টা পরিষদ)
(২) মজলিসে আমেলা (কার্যনির্বাহী পরিষদ)
(৩) মজলিসে ইলমি (শিক্ষা বিষয়ক পরিষদ)।

মজলিসে শুরা ও এর দায়িত্ব
জামিয়ার মজলিসে শুরা (উপদেষ্টা পরিষদ) নামে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী একটি পরিষদ থাকবে। জামিয়ার আইন-শৃঙ্খলা, আয়-ব্যয় এবং অপরাপর সকল বিভাগ উল্লেখিত পরিষদ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।
মজলিসে শুরার দায়িত্বসমূহ
(ক) সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার উদ্দেশে আইন প্রণয়ন করা, প্রচলিত আইন বাতিল কিংবা সংশোধণ করার অধিকার মজলিসে শুরার থাকবে।
(খ) জামিয়ার মূলনীতিসমূহ ও আদর্শের সংরক্ষণ করার দায়িত্ব মজলিসে শুরার ওপর থাকবে।
(গ) জামিয়ার আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিভিন্ন বিভাগ খোলা কিংবা একাধিক বিভাগকে মিলিয়ে এক করে দেওয়া, জামিয়ার বিশেষ স্বার্থে মজলিসে আমেলা ও মজলিসে ইলমি ছাড়াও বিভিন্ন স্থায়ী, অস্থায়ী কমিটি গঠন করা, নেছাবে তালীম সংশোধন-সংযোজনের জন্য দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে সাব কমিটি গঠন করা এবং কমিটিসমূহের সদস্য মনোণয়ন করা, দায়িত্ব এবং ক্ষমতা বণ্টন করা ও কার্যকালীন সময়সীমা নির্ধারণ করা, প্রয়োজন বোধে কোন বিভাগ কিংবা কমিটির বিলুপ্তি ঘোষণা করা।
(ঘ) কোন কমিটি কর্তৃক যদি জামিয়ার ক্ষতি সাধিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে তার কার্যাবলী বাতিল করা কিংবা উক্ত কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া।
(ঙ) শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ কিংবা অপসারণ করা, উন্নতি কিংবা অবনতি, বেতন, ভাতা, পদ ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা এবং বদলী করা।
(চ) নিম্ন পরিষদসমূহের প্রস্তাবাবলী ও রিপোর্ট সম্পর্কে বিবেচনা করা এবং মঞ্জুরী কিংবা প্রত্যাখ্যান করা।
(ছ) মজলিসে আমেলার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শ্রবণ করা এবং শেষ ফয়সালা দেওয়া।
(জ) নেছাব সাব কমিটি কর্তৃক পেশকৃত নেছাবে তালীমের মঞ্জুরী দেওয়া।
(ঝ) জামিয়ার দপ্তরে ইহতেমাম কিংবা দপ্তরে তালীমাতে এক সপ্তাহ পূর্বে নোটিশ দিয়ে জামিয়ার যে কোন বিভাগ পরিদর্শন করে মন্তব্য বইতে লিখিত মন্তব্য পেশ করার এখতিয়ার মজলিসে শুরার সদস্যগণের থাকবে।
(ঞ) মজলিসে শুরার উল্লেখিত দায়িত্ব ও এখতিয়ার হতে এক কিংবা একাধিক দায়িত্ব কোন সদস্য কিংবা কোন নিম্ন পরিষদকে দেওয়া।
(ট) জামিয়ার ক্যাশ সংরক্ষণ করা, আয়-ব্যয়ের নিয়মতান্ত্রিক হিসাবপত্র রক্ষণার্থে আইন প্রণয়ন করা এবং হিসাবপত্র যাচাই করা।
(ঠ) ওয়াক্ফ সম্পত্তিসহ জামিয়ার সমূদয় সম্পত্তির হেফাযত করা, আমদানী ও উসুল করা। জামিয়ার সম্পত্তি সংরক্ষণ করতে গিয়ে প্রয়োজনবোধে আদালতের আশ্রয় নেওয়া এবং এতদসংক্রান্ত খরচাদির মঞ্জুরী দেওয়া।
(ড) জামিয়ার ছাত্রগণের সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকেফহাল (অবগত) হওয়া এবং সমাধানার্থে সঙ্গত উপায় উদ্ভাবন করা।
(ঢ) বার্ষিক বাজেটের মঞ্জুরী দেওয়া, হিসাবপত্র অডিট করানো, বিশেষ অবস্থায় সমস্যাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে জামিয়ার নীতি নির্ধারণ করা এবং জামিয়ার উদ্দেশ্য ও আদর্শের প্রচার করা।
(ণ) উল্লেখিত দায়িত্ব ও এখতিয়ার ব্যতীত জামিয়ার উন্নতি, স্থায়ীত্ব, ভিত্তি সুদৃঢ় করা ও উদ্দেশ্য সাধনের সকল প্রকার দায়িত্ব ও এখতিয়ার মজলিসে শুরার থাকবে।

মজলিসে আমেলা
মজলিসে শুরার অধিনে মজলিসে আমেলা (কার্যনির্বাহী পরিষদ)-এর নামে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকবে। শুরার পক্ষ হতে মজলিসে আমেলার ৩১ ও ৩২ দফায় (গঠনতন্ত্রের) উল্লেখিত দায়িত্বসমূহ থাকবে। অবশ্য এ কমিটি মজলিসে শুরার নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে।

মজলিসে ইলমি
জামিয়ার তালীম ও তরবীয়তের উন্নতির উদ্দেশে স্থায়ী শিক্ষকগণের সমন্বয়ে মজলিসে ইলমি নামে একটি কমিটি থাকবে। এ মজলিস সর্বদা মজলিসে আমেলার নিকট জবাবদিহি করবে।
মজলিসে আমেলার পক্ষ হতে মজলিসে ইলমির নিম্ন লিখিত এখতিয়ারসমূহ থাকবে
(ক) জামিয়ার তালীম, তরবীয়ত, কিতাব বণ্টন, পরীক্ষা ও ছাত্রাবাসের শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা করা।
(খ) জামিয়ার পাঠ্য তালিকায় পরিবর্তন ও পরির্ধন করার প্রয়োজন দেখা দিলে মজলিসে ইলমির সুপারিশ ও প্রস্তাবাবলী মজলিসে আমেলার নিকট পেশ করা।
(গ) মজলিসে ইলমির সভা শিক্ষা বছরের শুরু ও শেষ এবং সব কয়টি পরীক্ষার পূর্বে অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে। এতদ্ব্যতীত যে কোন সময় প্রয়োজন দেখা দিলে সভা আহ্বান করা যাবে।
(ঘ) শিক্ষা বিষয়ক উন্নতির জন্য প্রতি মাসে মজলিসে ইলমি জামিয়ার সকল শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করবে।
(ঙ) সভার নোটিশ ও এজেন্ডা একদিন পূর্বে শিক্ষকগণের নিকট পৌঁছানো বঞ্ছণীয়। বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এক ঘণ্টা পূর্বে নোটিশ দিয়ে মজলিসে ইলমির সভা আহ্বান করা যাবে।